প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হল নবদ্বীপের রাস যাত্রা উতসব
দি নিউজ লায়ন ; বুধবার সকাল হতেই নবদ্বীপের অন্যতম ফাঁসিতলা গঙ্গার ঘাট সহ একাধিক ঘাটে শুরু হয়, রাস উপলক্ষ্যে একাধিক বারোয়ারীর প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব। প্রশাসন ও হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কোভিড আবহে উদযাপিত হল ঐতিহ্যবাহী নবদ্বীপের রাস উৎসব। রাস উপলক্ষ্যে প্রথম দুদিন পুলিশ প্রশাসন কঠোর মনোভাব দেখলেও বুধবার নিরঞ্জন পর্বে সেই কঠোরতা কোথাও চোখে পড়েনি।
প্রতিমা নিরঞ্জন কে ঘিরে ফাঁসিতলা ঘাট ও পীরতলা ঘাট সহ প্রায় প্রতিটি ঘাটে সামাজিক দুরত্ববিধি কে শিকেয় তুলে হাজারও মানুষের ভিড়। সেখানে কচিকাঁচা থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষের জমায়েত। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই উঠল প্রশ্ন। উল্লেখ থাকে যে, প্রায় তিন শতাধিক বছর পর এমন রাস উৎসব দেখল আপামর চৈতন্যভূমির বাসিন্দারা। কোভিড আবহে উদযাপিত হল ২০২০ সালের রাস উৎসব।
রাস উৎসব কে ঘিরে ছিলোনা কোনও উচ্চশব্দের বাজনা থেকে মাইক। নবদ্বীপের রাস মানে এক বৈচিত্রের মিশেল। চৈতন্যের শহরে রাস উৎসব অন্যান্য শহরের থেকে একেবারেই আলাদা। এখানকার রাস উৎসবে শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণব ভাব ধারায় গড়ে ওঠা এক একটি প্রতিমার বৈচিত্রের পাশাপাশি রাতভর আড়ং বা শোভাযাত্রা এক অন্যমাত্রা এনে দেয়। বিগত বছর গুলিতে রাস উৎসব দেখতে আসা লাখ মানুষকে সামলাতে হিমসিম খেতে হতো পুলিস ও প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের। মূল রাসের পর শোভাযাত্রার চক্রপথে কোথাও বাড়ির বারান্দা আবার কোথাও বাড়ির ছাদ, ভরে উঠত মানুষে মানুষে।
যেদিকে তাকান যেত শুধু মানুষের মাথা আর মাথা। রাতভর ধরে চলা আড়ং বা শোভাযাত্রা কে একটিবার প্রত্যক্ষ করতে সকাল সকাল রাস্তার ধারে চট, প্লাস্টিক, চেয়ার, বেঞ্চ পেতে বাড়ির বারান্দাগুলি দখল নিত স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দর্শনার্থীরা। এবারের রাসের উন্মাদনা কেড়ে নিল করোনা অতিমারি।

Post a Comment